রমজানে বন্ধ থাকবে স্কুল, হাইকোর্টের নির্দেশ
রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখা নিয়ে গত কয়েকদিনের টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো আজ। হাইকোর্টের সোজাসাপ্টা নির্দেশ- পুরো রমজান মাসেই বন্ধ থাকছে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাব কী? বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, রমজানে ক্লাস চলবে কি চলবে না- এই নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর আদালতের মধ্যে একটা অদৃশ্য দড়ি টানাটানি চলে। এবারও সরকার শুরুতে আংশিক ক্লাস চালু রাখার কথা বললেও আদালত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে প্রাধান্য দিয়েছে।
মাউশি (DSHE) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে হয়তো এর আগে ১০ বা ১৫ দিন ক্লাস করার একটা রুটিন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশের পর সেই পরিকল্পনা এখন পুরোপুরি বাতিলের পথে।
মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
* বন্ধের আওতা: সরকারি ও বেসরকারি সকল নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
* সময়সীমা: পুরো রমজান মাস।
* কারণ: সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখা।
মাউশির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?
সাধারণত হাইকোর্টের এমন আদেশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাউশি থেকে একটি জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেহেতু আমাদের দেশের জনবল কাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, তাই এই ছুটির ফলে সিলেবাসে কিছুটা চাপ পড়তে পারে।
তবে মনে রাখবেন, এই আদেশ মূলত নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের জন্য। প্রাথমিক বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অভিভাবকরা কি কিছুটা স্বস্তি পেলেন না? অবশ্যই, কারণ তপ্ত রোদে রোজা রেখে বাচ্চাদের স্কুলে নেওয়া-আনা করাটা বেশ অমানবিকই ঠেকছিল অনেকের কাছে।



